হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মাহদি মোলায়ী, যিনি ১৭ তীর (ইরানি ক্যালেন্ডার) তারিখে আমাদের "শহীদ নেতা"-এর ঐতিহাসিক শেষকৃত্যের সময় "সেই যুগের একক ব্যক্তিত্ব" শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সভায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের যশোর শহরে সফর করেছিলেন, সে দেশের বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি নিবন্ধে লিখেছেন: আমি বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় আয়াতুল্লাহুল উযমা খামেনেয়ী (রহ.)-এর স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। যশোর নামের এই শহরটি বহুদিন ধরেই শিয়া ও আহলুল বাইত (আ.)-এর অনুরাগীদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও লিখেছেন: হলরুমটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল, এমনকি পাশের হলটিও শ্রোতায় ভরা ছিল। শহীদ নেতাকে নিয়ে শোনার জন্য এবং এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রতি মানুষের আগ্রহ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সভায় তিনি তাঁর বন্ধু ও অধ্যাপক ড. ফোরাতির ‘পশ্চিম কেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে ভয় পেত?’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর সংক্ষিপ্তসার নিম্নরূপ: পশ্চিম সম্পূর্ণ শান্তচিত্তে হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেছে; শান্তভাবে অসংখ্য অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছে এবং ঔপনিবেশিকতার বুটের নিচে বহু জাতিকে পিষ্ট করেছে।
কিন্তু আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর সামনে এসে তারা সেই ঐতিহাসিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলেছিল। কেন? কারণ তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি সভ্যতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মুখোশ পশ্চিমের মুখ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন যে, এসব আকর্ষণীয় ধারণার আড়ালে কী বাস্তবতা লুকিয়ে আছে।
আরও বলা হয়: আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী দেখিয়েছিলেন যে, পশ্চিম তার গভীরতম স্তরে তিনটি মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত-অস্তিত্বগত শূন্যতা, গোপন আধিপত্যবাদ এবং প্রাণহীন ভোগবাদ; যা গোপনে উইপোকার মতো তার সত্তাকে ক্ষয় করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
এছাড়াও বলা হয়েছে: আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) তাঁর শান্ত ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে শুধু তীব্র বক্তব্যই দেননি; তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, পশ্চিমা উদারনৈতিক ব্যবস্থা স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে মানুষকে ভোগবাদী দাসে পরিণত করে।
লেখকের মতে: ইমাম খামেনেয়ীর (রহ.) এই উন্মোচন পশ্চিমের জন্য সামরিক আক্রমণের চেয়েও বড় বিপর্যয় ছিল; কারণ তিনি পশ্চিমের বৈধতার মূল ভিত্তিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। ইসলামী বিপ্লবের আগে পশ্চিম নিজেকে ইতিহাসের শেষ ধাপ এবং সভ্যতার একমাত্র সম্ভাব্য পথ হিসেবে উপস্থাপন করত।
কিন্তু আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বিশ্বকে ভিন্ন ধরনের জীবনব্যবস্থার সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। এটি পশ্চিমের জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোতে এক ভূমিকম্পের মতো ছিল; কারণ প্রথমবারের মতো একজন প্রাচ্যবাসী দুর্বলতার অবস্থান থেকে নয়, বরং একটি বিকল্প সভ্যতার অবস্থান থেকে পশ্চিমের অস্তিত্বগত সমালোচনা করেছিলেন। আর এখানেই তাঁর শাহাদাত তাঁর সমস্ত দাবির সত্যতার সাক্ষ্য হয়ে ওঠে।
আরও বলা হয়েছে: ইরানের এই শহীদ চার দশক ধরে বলে এসেছেন যে, পশ্চিম তাঁর প্রদত্ত প্রতিরোধের ধারণাকে ভয় পায়। পশ্চিমারা এটিকে কেবল একটি স্লোগান মনে করেছিল। কিন্তু যখন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী নেতা এবং ইসলামী উম্মাহর সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা জীবন বিসর্জন দিতেও এই বিশ্বাসে অটল থাকলেন এবং শাহাদাত গ্রহণ করলেন, তখন তিনি বিশ্বকে প্রমাণ করলেন যে, তাঁর বক্তব্য কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট বাস্তবতা।
শেষে লেখক বলেন: এমন একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের শাহাদাত তাঁর 'বিকল্প জীবনব্যবস্থা'-এর যুক্তিকে একটি বিমূর্ত তত্ত্ব থেকে বাস্তব ও সর্বজনবোধ্য সত্যে রূপান্তরিত করেছে। এই বাস্তবতা রক্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, যা আর কোনো শক্তিই উপেক্ষা করতে পারবে না।
পশ্চিম মুসলিমদের ইমামের জীবনের চেয়েও তাঁর শাহাদাতকে বেশি ভয় পেয়েছিল; কারণ তারা বুঝেছিল, একজন নেতার মৃত্যু হলেও তিনি যে আদর্শের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তা শেষ হবে না; বরং চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
এটাই পশ্চিমের চিরস্থায়ী ভয়ের রহস্য-এমন এক ভয়, যা ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নয়, বরং ঈমান ও রক্ত থেকে উৎসারিত একটি সত্য থেকে জন্ম নেয়।
আপনার কমেন্ট